রোগী দেখার কেন এত ফজিলত ? ওয়াদা রক্ষার কেন এত গুরুত্ব?
প্রখ্যাত আলেম আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রাহী:) নিকট থেকে জেনেছিলাম: কেন রোগী দেখতে গেলে ৭০ হাজার ফেরেশতা দোয়া করেন? আর আজ বুঝলাম কাউকে কথা দিয়ে কথা রাখা (ওয়াদা পালন) এর গুরুত্বটা কেন অনেক বেশি? মুসলিম এবং মুনাফিক এর মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে ওয়াদা পালন। ওয়াদা পালন না করলে তাকে চরিত্রহীন হিসেবে দেখা হয় এবং কেউ ওয়াদা অনুযায়ী কাজ করলে তাকে ঈমানদার এবং বিশ্বস্ত হিসেবে দেখা হয় কেন?কেন?
✅ প্রথমে আসি, হাসপাতাল হোক বা কোন বাসায় হোক বা কোন জায়গায় হোক রোগী দেখতে গেলে যিনি দেখতে যান তার জন্য ৭০ হাজার ফেরেশতা দোয়া করেন। প্রধান কারণ হচ্ছে যিনি রোগী তাকে কেউ যখন দেখতে আসে তার ব্রেন থেকে এবং তার শরীরের ভিতর অস্থিমজ্জা থেকে এমন এক পদার্থ নির্গত হয় যাতে ওই রোগী তাৎক্ষণিক ভালো অনুভব করেন এবং ৫০ থেকে ৮০ ভাগ অন্তর থেকে সুস্থ হয়ে যান।. এর প্রভাব এতটাই যে তার চেহারাতে ধরা পড়ে। যদি খেয়াল না করে থাকেন খেয়াল করে দেখবেন। বিষয়টা কোন মেডিসিনের মাধ্যমে মিলানো সম্ভব নয়। এজন্যই কোন রোগী দেখতে গেলে তার জন্য সত্তর হাজার ফেরেশতা দোয়া করেন। এটাই ৭০,০০০ ফিরিশতার দোয়ার হিকমাহ্। والله اعلم
✅ এবার আসি ওয়াদা পালনের বিষয়, প্রথমে বলে নেই একজন মানুষ অতিরিক্ত চিনি বা অতিরিক্ত লবণ খাইলে যতটা না অসুস্থ হবে, ডায়াবেটিস বা কিডনির উপর খারাপ প্রভাব বা শরীরে কোন রোগ হবে, তার চাইতে বেশি অসুস্থ হবে যদি সে স্ট্রেস নেয় বা দুশ্চিন্তা করে। দুশ্চিন্তা মানুষ বিভিন্নভাবে করতে পারে বিভিন্ন কারণে করতে পারে তবে আজকের বিষয়টা একজনের কারণে অন্যজনের টেনশন।
🎙️ এখন আপনি কাউকে কোন কাজ করে দেওয়ার ওয়াদা করেছেন কোন এক নির্দিষ্ট দিনে এবং সময়ে। অথবা কেউ আপনার কাছে নির্দিষ্ট পরিমাণে টাকা পাবে যেটা ফেরত দেওয়ার ওয়াদা করেছেন কোন একটা নির্দিষ্ট দিনে এবং সময়ে। উক্ত নির্দিষ্ট দিনে এবং সময় যদি আপনি দিতে পারবেন না বলে মনে হয় তাহলে অবশ্যই আগেই তাকে জানিয়ে দিন যে কথা দিয়েছিলেন - বিশেষ কারণে কাজটা করতে পারছে না এবং আরেকটু সময় চেয়ে নিন। পরবর্তী সময় দেওয়ার আগে অবশ্যই নিশ্চিত হয়ে সময় দিন। নির্দিষ্ট সময় না দিতে পারলে এভাবে বলুন যে আমাকে আর একটু সময় দিন আমি কখন দিতে পারব আপনাকে জানাবো। এসবে শুধু আপনার ভদ্রতা প্রকাশিত হয় এজন্য এর গুরুত্বটা এত দেওয়া হয় নাই। ✅গুরুত্বটা এজন্য দেয়া হয়েছে যে আপনার কারনে অন্যের ক্ষতি না হয়ে যায় আর সেই দায় আপনাকেই নিতে হয়। মানে আপনি যদি এভাবে তাকে আগেই না জানিয়ে ওই দিনটা ঘুরিয়ে দেন এবং সে আপনার কাছে টাকা চাইলে বা সেই কাজটি চাইলে আপনি বললেন "আজকে না আর একদিন" 🚨 তাহলে সে ব্যক্তির ব্রেনে এমন একটি রস বা হরমোন নির্গত হবে, তার দেহের ভিতর অস্থিমজ্জা থেকে এমন একটি রস বা হরমোন নিঃসৃত হবে যাতে করে তার ব্রেনে চাপ অনুভূত হবে, ও তার কিডনিতে প্রভাব পড়বে, তার শরীরে প্রভাব পরবে এবং সঙ্গে সঙ্গে তার দেহে , মুখে অসুস্থতার একটা ঝাপসা/হতাশা / ফ্যাকাশে ভাব ফুটে উঠবে।
যদি খেয়াল না করে থাকেন খেয়াল করে দেখবেন। والله اعلم
এমতাবস্থায় সে আপনাকে কিছু বলতেও পারছে না সইতেও পারছেনা এমন যদি হয় অবশ্যই সে এই কারণেই ধীরে ধীরে নয়, অতি দ্রুত সময়ে বিছানায় পড়ে যাবেই যাবে। 🚨 আমার কথা বিশ্বাস না হইলে যে কোন ভালো একজন ডাক্তারের কাছে এই কথাগুলো বলে দেখুন সত্য কিনা🚨 যাচাই করে নিন।
*# তার যে কাজটি প্রয়োজন ছিল আপনি সে কাজটি না করে দেওয়াতে সে কোন একটা অসুবিধায় পড়ছে এবং আপনি করে দিবেন বলে ওয়াদা করছেন বলেছে অন্য কাউকে দিয়ে করাতে পারছে না আবার আপনাকে সে কিছু বলতেও পারছে না শুধু আপনার উপর বিশ্বাস করে বসে আছে আর আপনি মনে মনে তাকে কোনদিন হয়তো করে দেবেন না কিন্তু মুখে মুখে করবেন করবেন বলে ঘুরাচ্ছেন। কত চান কতটা নিকৃষ্ট নিষ্ঠুর মানসিকতা হলে এমনটা করা যায়!!
*# তার যে টাকাটি পাওনা ছিল আপনি না দেওয়াতে সে প্রয়োজন মিটাতে পারছে না, সে এতে অসুস্থ হয়েছে আর আপনার কাছে হয়তো এক হাজার টাকা পাবে তার অসুস্থতায় আরো ১০০০ টাকা খরচ হয়ে গেল আপনি তাকে সময় মত টাকাটা দিলেন না। ভাই, হাতের আঙ্গুল কেটেছে আজকে এক সপ্তাহ পরে ওষুধ দিলে কাজ হবে কি??. আজ দরকার ১০০০ টাকা আপনি আজ ১০ টাকা দিলেন কাল ২০০ টাকা দিলেন পরের দিন ২০০০০০০০০০০ টাকা দিলেন। লাভটা কি? ।
তাছাড়া কিছু কিছু মানুষের ভাব দেখলে মনে হয় তারা এগুলো করেই মজা পায় এবং এগুলো নিয়ে (ফুটবলাররা ফুটবল খেলে তারা এগুলো নিয়ে মানুষকে খেলে।) কিন্তু ভাই আপনি কিন্তু এই মানুষটার অসুস্থতার জন্য এমনকি তাহার মৃত্যুর জন্য দায়ী হয়ে যেতে পারেন মহান আল্লাহর কাছে। একটা মানুষ বারবার ও এরকম আঘাত খাইতে খাইতে সে আপনাকে কিছু বলতেও পারছে না সইতেও পারছেনা এমন যদি হয় অবশ্যই সে এই কারণেই ধীরে ধীরে নয়, অতি দ্রুত সময়ে বিছানায় পড়ে যাবে। ❤️ তাই আল্লাহর ওয়াস্তে আপনার এসব বেখেয়ালি কাজের জন্য অন্যকে অসুস্থ করবেন না । না পারলে বলে দিন পারবো না। বাদ দিন। আপনার সঙ্গে কেউ যদি এমন করে আপনার কেমন লাগবে এটা চিন্তা করে হলেও এই কাজগুলো থেকে ফিরে আসার চিন্তা করুন❤️ মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সবাইকে তৌফিক দিন আমিন।

কোন মন্তব্য নেই
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন