Friday, January 5, 2018

জুমআর দিনের ফযীলত ও বৈশিষ্ট্য


জুমআর দিনের ফযীলত ও বৈশিষ্ট্য
******************************
১। জুমুআহ অর্থাৎ জমায়েত বা সমাবেশ ও সম্মেলনের দিন। এটি মুসলিমদের সাপ্তাহিক ঈদ ও বিশেষ ইবাদতের দিন। মহানবী (সাঃ) বলেন, “এই দিন হল ঈদের দিন। আল্লাহ মুসলিমদের জন্য তা নির্বাচিত করেছেন। অতএব যে জুমআয় আসে, সে যেন গোসল করে এবং খোশবূ থাকলে তা ব্যবহার করে। আর তোমরা দাঁতন করায় অভ্যাসী হও।” (ইবনে মাজাহ্‌, সুনান ১০৯৮নং)

২। জুমআর দিন সবার চাইতে শ্রেষ্ঠ দিন। এমনকি ঈদুল ফিতর ও আযহা থেকেও শ্রেষ্ঠ।

৩। এই দিনে আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং বেহেশ্‌ত দান করা হয়েছে।
মহানবী (সাঃ) বলেন, “যার উপর সূর্য উদিত হয়েছে তার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হল জুমআর দিন। এই দিনে আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনে তাঁকে বেহেশ্তে স্থান দেওয়া হয়েছে এবং এই দিনেই তাঁকে বের করে দেওয়া হয়েছে বেহেশ্‌ত থেকে। (এই দিনেই তাঁর তওবা কবুল করা হয়েছে, তাঁর মৃত্যু হয়েছে এই দিনেই। আর কিয়ামত সংঘটিত হবে এই দিনেই।” (মুসলিম, মালেক, মুঅত্তা, আহমাদ, মুসনাদ, আবূদাঊদ, সুনান, তিরমিযী, সুনান, নাসাঈ, সুনান,হাকেম, মুস্তাদরাক, ইবনে হিব্বান, সহীহ, জামে ৩৩৩৪নং)

তিনি বলেন, “জুমআর দিন সকল দিনের সর্দার এবং আল্লাহর নিকট সবার চেয়ে মহান দিন। এমনকি এ দিনটি আল্লাহর নিকট আযহা ও ফিতরের দিন থেকেও শ্রেষ্ঠ। এই দিনে রয়েছে ৫টি বিশেষ বৈশিষ্ট্য; এই দিনে আল্লাহ আদমকে সৃষ্টি করেছেন, এই দিনে তাঁকে পৃথিবীতে অবতারণ করেছেন, এই দিনে তাঁর ইন্তিকাল হয়েছে, এই দিনে এমন একটি মুহূর্ত আছে, যদি কোন মুসলিম বান্দা সে মুহূর্তে আল্লাহর নিকট কোন কিছু বৈধ জিনিস প্রার্থনা করে, তাহলে আল্লাহ তাকে তা দিয়ে থাকেন। এই দিনে কিয়ামত সংঘটিত হবে। আর প্রত্যেক নৈকট্যপ্রাপ্ত ফিরিশ্‌তা, আকাশ, পৃথিবী, বাতাস, পর্বত, সমুদ্র এই দিনকে ভয় করে।” (ইবনে মাজাহ্‌, সুনান ১০৮৪নং)

৪। এই দিনে মহান আল্লাহ জান্নাতে প্রত্যেক সপ্তাহে বেহেশতী বান্দাগণকে দর্শন দেবেন।
হযরত আনাস (রাঃ) (ولدينا مزيد) এর ব্যাখ্যায় বলেন, ‘মহান আল্লাহ বেহেশতীদের জন্য প্রত্যেক জুমআর দিন জ্যোতিষ্মান হবেন।’ এই দিনের আসমানী ফিরিশ্‌তাবর্গের নিকট নাম হল, ‘য়্যাউমুল মাযীদ।’

৫। এই দিনে গুনাহ মাফ হয়।
হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল (সাঃ) বলেছেন, “যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে ওযু করে জুমআর উদ্দেশ্যে (মসজিদে) উপস্থিত হয়। অতঃপর মনোযোগ সহকারে (খুতবাহ্‌) শ্রবণ করে ও নীরব থাকে সেই ব্যক্তির ঐ জুমুআহ থেকে দ্বিতীয় জুমুআহর মধ্যবর্তীকালে সংঘটিত এবং অতিরিক্ত তিন দিনের পাপ মাফ করে দেওয়া হয়। আর যে ব্যক্তি (খুতবা চলাকালে) কাঁকর স্পর্শ করে সে অসার (ভুল) কাজ করে।” (মুসলিম, সহীহ ৮৫৭ নং আবূদাঊদ, সুনান, তিরমিযী, সুনান, ইবনে মাজাহ্‌, সুনান)

৬। এই দিনে এমন একটি সময় আছে, যাতে দুআ কবুল হয়।
মহানবী (সাঃ) বলেন, “জুমআর দিনে এমন একটি (সামান্য) মুহূর্ত আছে, যদি কোন মুসলিম বান্দা নামায পড়া অবস্থায় তা পায় এবং আল্লাহর নিকট কোন মঙ্গল প্রার্থনা করে, তাহলে আল্লাহ তাকে তা দিয়ে থাকেন।” (বুখারী ৯৩৫নং, মুসলিম, মিশকাত ১৩৫৭নং)

এই মুহূর্তের ব্যাপারে বলা হয়েছে যে, তা হল ইমামের মিম্বরে বসা থেকে নিয়ে নামায শেষ হওয়া পর্যন্ত সময়। (মুসলিম, মিশকাত ১৩৫৮নং) অথবা তা হল আসরের পর যে কোন একটি সময়। অবশ্য এ প্রসঙ্গে আরো অন্য সময়ের কথাও অনেকে বলেছেন। (যাদুল মাআদ, ইবনুল কাইয়েম ১/৩৮৯-৩৯০)

৭। এই দিনে দান-খয়রাত করার সওয়াব বেশী।
হযরত কা’ব (রাঃ) বলেন, ‘অন্যান্য সকল দিন অপেক্ষা এই দিনে সদকাহ্‌ করার সওয়াব অধিক।’ (যাদুল মাআদ, ইবনুল কাইয়েম)

৮। জুমআর ফজরের নামায জামাআত সহকারে পড়ার পৃথক বৈশিষ্ট্য আছে।
মহানবী (সাঃ) বলেন, “আল্লাহর নিকটে সব চাইতে শ্রেষ্ঠ নামায হল, জুমআর দিন জামাআত সহকারে ফজরের নামায।” (সিলসিলাহ সহীহাহ, আলবানী ১৫৬৬নং)

৯। এই দিনে বা তার রাতে কেউ মারা গেলে কবরের আযাব থেকে রেহাই পাবে।
মহানবী (সাঃ) বলেন, “যে মুসলিম জুমআর দিন অথবা রাতে মারা যায়, আল্লাহ তাকে কবরের ফিতনা থেকে বাচান।” (আহমাদ, মুসনাদ, তিরমিযী, সুনান, জামে ৫৭৭৩)


Friday, December 29, 2017

কোন ধরণের ছেলেকে / মেয়েকে বিয়ে করলে জীবনে আসল শান্তি আসবেই ??

কেন আপনি দ্বীনদার ছেলেকে বিয়ে করবেন ?
.
•• সে তার দৃষ্টি নত রাখবে। রাস্তাঘাটে বা এখানে সেখানে মেয়েদের দিকে হা করে তাকিয়ে থাকবে না।
.
•• অফিসে বা বাহিরে থাকা অবস্থায় কি করছে তা নিয়ে আপনাকে দুশ্চিন্তায় থাকবে হবে না। অফিসের কলিগ বা অন্য মেয়েদের সাথে ফ্ল্যার্ট করছে কিনা সেই ভয়ে থাকতে হবে না আপনাকে।
.
•• আপনার সাথে অশালীন আচরণ করবে না। কখনো অশ্লীল শব্দ উচ্চারণ করবে না। আজেবাজে ভাষার ব্যবহার বা গালাগালি করবে না।
.
•• কখনো আপনার বা সন্তানের গায়ে হাত তুলবে না।
.
•• বিয়েতে মোটা অংকের যৌতুক বা উপহার দাবি করবে না। ইন্ডিরেক্টলি সেটার জন্যে ফোর্স করবে না।
.
•• ড্রাগস বা খারাপ সঙ্গের ভয় থাকবে না আপনার। নেশাজাতীয় কোন কিছুর সাথে সম্পৃক্ততা থাকবে না। যাদের সাথে মিশতেছে ওরা কেমন। কবে না ঘরে মাতাল হয়ে ফিরে এই ভয় থাকবে না আপনার।
.
•• আপনাকে এবং আপনার পরিবারের লোকজনকে সে সম্মান করবে। ভালো ব্যবহার করবে।
.
•• দ্বীন ও দুনিয়ার কাজে সহযোগী হবে। আশা করা যায় ঘরের কাজে সহযোগীতা পাবেন। চাকরাণী নয় রাণীর মতো ট্রিট করবে আপনাকে।
.
•• দ্বীন পালনের জন্যে পরিপূর্ণ পর্দা করার জন্যে আপনি একটি সুন্দর পরিবেশ পাবেন। দ্বীন পালনে বা পর্দা করতে কোন বাধার মুখোমুখী হতে হবে না।
.
•• একসাথে দ্বীন পালনের মাধ্যমে জান্নাতের দিকে এগিয়ে যেতে সহজ হবে। আপনি একজন মাধ্যম পাবেন যার সহযোগিতায় আলেমদের কাছ থেকে বিভিন্ন মাসয়ালা মাসায়েল জানতে পারবেন। ভালো একজন গাইড পাবেন যে দ্বীন পালনে আপনাকে সঠিক দিক নির্দেশনা দিতে পারবে। নিজে না পারলেও আলেমদের কাছ থেকে জেনে জানাতে পারবে।
______
______
কেন আপনি দ্বীনদার কোন মেয়েকে বিয়ে করবেন ??
.
•• যেহেতু সে পরিপূর্ণ পর্দানশিন হবে তাই দাইয়্যুস হওয়ার মতো বড় একটি আজাব থেকে বেঁচে যাবেন আপনি। হাশরের ময়দানে অনেক জবাবদিহিতার হাত থেকে আপনি বেঁচে যাবেন।
.
•• সে উত্তম চরিত্রের পবিত্র মানুষ হবে। দুনিয়ার সামান্য কিছুর বিনিময়ে সে তার স্বকীয়তা হারাবে না। মৃত্যুর ভয়েও সে তার সম্মান ও সম্ভ্রমকে হারাবে না।
.
•• অফিসে বসে দুশ্চিন্তা করতে হবে না; সে অনৈতিক কোন কার্যকলাপে জাড়াচ্ছে কি না। আপনার সাথে প্রতারণা করছে কি না। আল্লাহর ভয়েই সে নিজের চরিত্রের হেফাজত করবে।
.
•• আপনার সন্তান ভালো একজন শিক্ষিক পাবে। দক্ষ হাতে মানুষ হবে। অবহেলায় অনাদরে বড় হবে না। মানুষের মতো মানুষ হবে ইনশাআল্লাহ্।
.
•• মোটা অংকের দেনমোহর দিতে হবে না। ওয়েডিং ফটোগ্রাফি, বিশাল রিসেপশান ও কয়েক লাখ টাকার শপিংয়ের দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত থাকবেন।
.
•• এই বার্ষিকী, সেই বার্ষিকী, অমুক দিবস, তমুকের বার্থডে পার্টির গিফটের ঝামেলা থেকে মুক্ত আপনি। এই দিবস সেই দিবসের ডেট মনে রাখতে হবে না কষ্ট করে। অমুক মাসের অমুক তারিখে গিফট কিনে দেননি কেন তা নিয়ে ঝগড়া করবে না সপ্তাহ জুড়ে।
.
•• আপনার হালাল ইনকাম অল্প হলে তাতেই তুষ্ট থাকবে। হারাম থেকে বেঁচে থাকতে সহজ হবে আপনার জন্যে। কুমিরের মতো আচরণ করবে না। এটা চাই ওটা চাই বলে আপনাকে ফোর্স করবে না। হারামের দিকে ঠেলে দিবে না।
.
•• আনুগত্য করবে আপনার। কথায় কথায় তর্ক করবে না। বেয়াদবি করবে না।
.
•• হিন্দি সিরিয়াল বা ভারতীয় বাংলা সিরিয়ালের আজাব থেকে মুক্ত থাকবেন ইনশাআল্লাহ্। অমুক ভাবী এই করেছে তমুক ভাবী সেই করেছে এই ধরনের ক্যাচাল থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন।
.
•• দ্বীনের পথে অগ্রসর হতে সাহায্য করবে আপনাকে। ঈমান ও আমল বুষ্ট হবে ইনশাআল্লাহ্। আল্লাহর রাস্তায় বের হতে সাহায্য করবে আপনাকে। বের হওয়ার সময় হলে ব্যাগ গুছিয়ে দিবে আপনার। আচল দিয়ে বেঁধে রাখবে না ইনশাআল্লাহ্।
________
________
লেখাটা পড়ার পর অনেকেরই মনে হবে ইশশশ আমার স্বামী (ছেলেদের বেলায় স্ত্রী) যদি এমন হতো। অথচ আমাদের চিন্তা করা উচিৎ ছিল আমি যদি এমন স্বামী/স্ত্রী হতে পারতাম। নিজের দায়িত্বটা আগে ঠিক মতো পালন করি তারপর আল্লাহর উপর ভরসা করি এবং তেমন কারো জন্যে দোয়া করতে থাকি। আল্লাহর কাছে নিজের পছন্দ মতো চাওয়ার পাশাপাশি যেন এটাও চাই, আমি যেন তার যোগ্য হতে পারি।

দ্বীনদারদের মাঝে এর অনেক কিছুরই অভাব আছে। তবে নরমালদের সাথে কম্পেয়ার করলে % percentage টা তুলনামূলক ভাবে কম।

Collected!


♥ Designed By: SmKhalid ♥

Sora Templates